সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলার হুমকি ড. কামালের

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সমাবেশ করতে না দেয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে এ ঘটনায় মামলার হুমকি দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘মিছিল সমাবেশ জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার সে অধিকারে বাধা দিয়ে পদে পদে সংবিধান লঙ্ঘন করছে। লালদিঘীতে কেন সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না তা খুঁজে বের করব। ঢাকায় গিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানে লেখা আছে দেশের মালিক জনগণ, সরকার সেবক। এখন সেবকরা মালিককে কষ্ট দিচ্ছে। লালদিঘীতে সমাবেশ হলে সবাই বসে কথা শুনতো। রাস্তার উপর সমাবেশে এসে একটানা ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বক্তব্য শোনা কষ্টকর। যারা এ কষ্ট দিল তাদের বিচার জনতার আদালতে হবে।’

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমাদের সাত দফা দাবির বিষয়ে গণরায় পেয়েছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণ এক হলে সব সম্ভব। যেমনভাবে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের সাত দফা দাবিও আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।

শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমেদ সড়কের নগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণ এক হয়ে চাইলে কোনো কিছু অসম্ভব নয়। আজ চট্টগ্রামে গণরায় পেয়েছি, সেদিন সিলেটে পেয়েছি, তারপর রাজশাহী ও ঢাকায় সমাবেশ করব।

যদিও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ঐক্যফ্রন্টের এ সাত দফা দাবি নাকচ করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মানা হবে না।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়ার কী আছে? আর কত চাইব। মুক্তি চাইতে হবে কেন? মুক্তি দিতে হবে। যদি অবিলম্বে মুক্তি দেয়া না হয়- আর তার কিছু হয় তাহলে এর জন্য জবাব দিতে হবে। আমরা জবাব চাইব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চট্টগ্রামের অন্যতম সমন্বয়ক নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হেসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামী আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে দুপুরে সমাবেশ শুরু হলেও সকাল থেকেই সমাবেশস্থল নুর আহমেদ সড়কে আসতে থাকেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে নগরীতে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়। ভোর থেকে পুলিশের একাধিক টিম নুর আহমেদ সড়ক, কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। সমাবেশের চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মহসীন জানান, সমাবেশ থেকে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা করতে না পারে সে জন্যই পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চট্টগ্রামে এটি দ্বিতীয় সমাবেশ। এর আগে ২৪ অক্টোবর এই জোট সিলেটে সমাবেশ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares