” আমার প্রিয় শিক্ষিকা “-রফিকুল ইসলাম জসিম

” যেতে নাহি দিব হায়,

তবু চলে যেতে হয়, তবু চলে যায়” ||

হৃদয় ব্যাথিত দীর্ঘ সময়ের প্রীতিময় বন্ধন ছেড়ে প্রাণের স্কুল প্রাঙ্গন শুকুর উল্লার গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে আমার শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় শিক্ষিকা ভানুমতি সিনহার বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেদিন সবার চোখে জল ভেসে ওঠে তখন আমার চোখের জল থেমে রাখতে পারিনি – চোখের কান্না চলে এসেছিলো, তার মহান কর্ম ব্যাক্তিত্ব আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি মহানুভব, ব্যাক্তিত্ববান, দৃঢ়চেতা একজন আদর্শ প্রিয় শিক্ষিকা।

আমার প্রিয় শিক্ষিকা ভানুমতি সিনহা সংক্ষেপে তিনি শুধু ভানু ম্যাডাম নামে পরিচিত। তিনি আমার স্কুল জীবনের প্রথম ক্লাসের প্রথম শিক্ষিকা। ক্লাসে এলেই তাঁকে সবাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই, তিনি চমৎকার ক্লাস করাতেন তারপর সবার উদ্দেশে কিছু উপদেশমূলক কথা বলতেন।

আমার কাছে রাতের আকাশে ধ্রুবতারা মতোই উজ্জল। শিক্ষিকা হিসাবে সবচেয়ে বড় গুন হচ্ছে লেখাপড়া বা ভালো উপদেশ উৎসাহ উদ্দীপনা দিতেন সবসময়। ভানু ম্যাডাম কেবল প্রিয় শিক্ষিকাই নন, আদর্শ ব্যক্তিত্বও তিনি সত্য ও সুন্দরের উপাসক বিভিন্ন রসিকতার মধ্যে দিয়ে তিনি ছাত্রদের খুবই আন্তরিকা করে তোলেন। তার কর্মজীবনে সত্য ও স্যায়ের এক আদর্শ প্রতীক।

সুদীর্ঘ ১৮ বছর পূর্বে শিক্ষকতার মহান ব্রত নিয়ে এসেছিলেন এ শুকুর উল্লার গাঁও সরকারি-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর কলকাকলিতে মুখরিত অঙ্গন থেকে প্রিয় শিক্ষিকার অশ্রুসজল বিদায় আমার হৃদয় বেদনামথিত।

সুদীর্ঘকাল কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও প্রীতিস্নিগ্ধ ভালোবাসা দিয়ে আমাদের অন্তর জয় করেছিলেন। অজস্র ছাত্র পরশপাথরের মতো প্রিয় শিক্ষিকা আপনার হাতের ছোঁয়ায় পেয়েছে আলোকিত জীবন। স্কুল কর্মজীবনে সত্য ও ন্যায়ের এক আদর্শ প্রতীক জনাবা ভানুমতি সিনহা।

বিদায়বেলা প্রিয় শিক্ষিকা স্মৃতিকথা মনেপড়ে বেদনার হৃদয় ভেঙ্গে কান্না আসছে। তার পথচল স্কুলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পাঠদান, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সহ জীবন পরিচালনায় দিক-নির্দেশক ও অভিভাবক হিসাবে সর্বদা পেয়েছি। সময়ের বাস্তবতা এই প্রাণের পাঙ্গন থেকে বিদায় নিলেও আমার অন্তরের মণিকোঠায় থাকবে চিরদিন অম্নান।

শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা হিসাবে যোগ্য নেতৃত্বে নতুন মাত্রা পেয়েছে, শত শত আলোকিত জীবন গড়েছেন। স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ অনেক উন্নত। সৌভাগ্য হয়েছি যে, আমাদের মাঝে একজন সুদক্ষ শিক্ষকের পদপ্রাপ্তে বসে শিক্ষা লাভ করছি বলে। স্কুল জীবনে আমরা কোনদিন কোনো কিছুর অভাব বোধ হয়নি। যখন যা চেয়েছি হাসিমুখে তাই দিয়েছিল। জীবনে কভু ভুলব না।সুর্দীঘ জীবনে কতশত ছাত্রের জ্ঞান-প্রদীপ নিজ হাতে জ্বেলে দিয়েছিল তাই সবার নিকট অকৃত্রিম ভালোবাসা সিক্ত।

সুদক্ষ দিক- নির্দেশক ও অভিভাবক হিসাবে অজস্র ছাত্র পরশপাথরের মতো তার হাতের ছোঁয়ায় পেয়েছি আলোকিত জীবন। প্রীতিময় বন্ধন ছিন্ন হয়ে প্রানের স্কুল থেকে বিদায়বেলা মহূতে ক্রেষ্ট প্রদান করে গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতঞ্জতা জানানো হয়।

ভানু ম্যাডাম একজন প্রকৃত ও আদর্শ শিক্ষিকা। একজন শিক্ষিকার যে গুনগুলো থাকা দরকার তার প্রায় সবগুলোই তাঁর মধ্যে আছে। তিনি অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী ও কর্তব্যনিষ্ঠ। তাঁর মতো আদর্শ শিক্ষিকা জাতির জন্য বড়ই দরকার, কিন্তু পাওয়া বড় দুষ্কর।

ভানু ম্যাডাম আমার ও আমাদের কাছের মানুষ এবং বন্ধুর মতো। কোনো রকম অহংকার তার মাঝে নেই। আর সে জন্যই তিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষিকা।

ভানু ম্যাডাম আমাদের জীবন নদীর দিকনির্দেশক মাঝি। তিনি আলোর দিশারি: আমার এবং আমাদের সবার জীবনে পথপ্রদর্শক। তিনিই আমার প্রথম জীবন ও জগৎ সম্পর্কে ভাবতে শিখিয়েছেন। আর সে জন্যই আমার হৃদয়ে চিরদিন অম্নান থাকবেন আমার প্রিয় শিক্ষিকা ভানুমতি সিনহা।

কলামিষ্ট – রফিকুল ইসলাম জসিম
সাংবাদিক – সমাজকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares