শ্রমিকদের নৈরাজ্য, দ্বিতীয় দিনেও রাস্তায়-রাস্তায় চলছে মবিলের হোলি খেলা

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো আজও চলছে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট। রাজধানীর রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালকদের পথরোধ করে তারা মবিল মাখিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি চালকদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি গাড়িতে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

বিশেষ করে রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সোমবার এরকম ঘটনা বেশি চোখে পড়েছে।

এরআগে, গতকালও পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগ পোহান সাধারণ মানুষ। দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি বাধা দেয়া হয় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও। নাজেহাল করা হয় ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের। চলতে দেয়নি স্কুল কলেজের বাসও। সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে রোববার থেকে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডাক দেয় পরিবহন শ্রমিকরা।

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের প্রায় সব জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকরা যেমন যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন, তেমনি চলছে না পণ্যবাহী কোনো পরিবহনও। রাজধানীর সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক থেকে শুরু করে মহাসড়কেও বিরাজ করছে যানবাহনশূন্যতা।

পরিবহন ধর্মঘটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গন্তব্যমুখী মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধের গাড়িও ঠেকিয়ে দিতে দেখা গেছে। গাড়ি দিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির পাশাপাশি শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত যান ঠেকিয়ে দিচ্ছেন।

সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা সংশোধন চেয়ে আট দফা দাবিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন-শ্রমিক ফেডারেশন সারা দেশে তাদের ভাষায় ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছে গতকাল রবিবার সকাল থেকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অন্য যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল তাদেরও বাধা দিয়েছে। তাদের বাধা থেকে রেহাই পায়নি অ্যাম্বুল্যান্সসহ ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশাও। অনেক স্থানে তারা রাস্তায় নামা গাড়ির চালককে মারধর করেছে। অনেকের মুখে মাখিয়ে দিয়েছে পোড় মবিলের কালি। এ রকম অবস্থায় এক অমানবিক ও দুর্বিষহ সময় পার করেছে রাজধানীর মানুষসহ সারা দেশবাসী। ধর্মঘটি শ্রমিকদের কর্মকাণ্ডে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছিল সারা দেশের মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ সময়ে অসহায় যাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। আজও রয়েছে শ্রমিকদের ডাকা এই আতঙ্কের ধর্মঘট।

এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের সুযোগে লাগামহীন হয়ে উঠেছে রাজধানীর অ্যাপভিত্তিক পরিবহনগুলো। তারা নির্দিষ্ট ভাড়ার পরিবর্তে, অ্যাপ বাদ দিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ব্যবহারকারীরা। কল্যাণপুর থেকে মতিঝিলগামী ব্যাংক কর্মকর্তা সাঈদ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি উবার ও পাঠাও এর একটি মোটরবাইকের জন্য। কোনো রাইডে সারা পাচ্ছি না। এর মধ্যে ছয়জন অ্যাপভিত্তিক মোটরবাইক সামনে এসে দাঁড়িয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া চেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares