কেন মাথা ঘোরে?

হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করলে কারও মনে হতে পারে, তিনি নিজেই যেন ঘুরছেন, একপাশে হেলে পড়ছেন। যতক্ষণ না মাথা ঘোরা চলে যায়। অনুভূতি যেমনই হোক না কেন, মাথা ঘোরার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক কারণেই মাথা ঘুরতে পারে। তবে মূলত কানের ভেতরে ভেস্টিবুলোককলিয়ার নামের স্নায়ুতে সমস্যার কারণে বেশি মাথা ঘুরে থাকে।

এ বিষয়ে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, হঠাৎ করে বসা, হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে পড়া, কাজের চাপ ইত্যাদি নানা কারণে অনেকের মাথা ঘুরে উঠতে পারে। কিছুক্ষণ বসে থাকলে তা আবার ঠিকও হয়ে যায়। তাই এ নিয়ে কেউ খুব বেশি মাথা ঘামান না। এটা ঠিক নয়।

মাথা ঘোরার কারণ

অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, কিছু ওষুধ সেবন, অন্তঃকর্ণের রক্তবাহী নালির অস্বাভাবিকতা, অন্তঃকর্ণের প্রদাহ, মধ্য কানের প্রদাহ, মেনিয়ারস রোগ, অস্বাভাবিক দৃষ্টিগত সমস্যা। বেশি উঁচুতে উঠে নিচের দিকে তাকালে এবং চলন্ত ট্রেন বা গাড়ি থেকে প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকালে মাথা ঘোরা। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ; মাথার পেছন দিকে ও ঘাড়ের রক্তনালিতে বাধা বা রক্ত সরবরাহে ত্রুটি; মস্তিষ্কের নিচের দিকে টিউমার, পানি জমাট রোগ; ভাইরাসজনিত রোগ; আঘাতজনিত ইত্যাদি কারণেও মাথা ঘুরতে পারে। এ সমস্যার পাশাপাশি কানের ভেতর শোঁ শোঁ বা দপদপ শব্দ হতে পারে।

কখনো কখনো মাথার অবস্থান পরিবর্তন করলে সমস্যাটা বাড়ে-কমে। আনুষঙ্গিক সব তথ্য চিকিৎসককে জানাতে হবে।

যা করবেন না

এ রকম আচমকা মাথা ঘুরতে থাকলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। এ রকম অবস্থায় পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই একটা অবলম্বন আঁকড়ে ধরে বসে পড়াই ভালো।

যাঁদের ‘বিনাইন পজিশনাল ভারটিগো’ নামের সমস্যাটি আছে, হঠাৎ ঘাড় বা মাথার অবস্থান পরিবর্তন করলেই তাঁদের মাথা ঘোরা শুরু হয়। এ জন্য রাতে পাশ ফিরে না শুয়ে তাঁরা চিত হয়ে একটু উঁচু বালিশে মাথা দিয়ে শোবেন। হঠাৎ করে মাথা বা ঘাড় উঁচুতে টানটান করবেন না, মাথা ঝাঁকাবেন না।

হঠাৎ মাথা ঘুরতে থাকলে আপনি যে কাজটা করছিলেন, সেই কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। বন্ধ করুন চোখ দুটো। সহজভাবে শ্বাস নিন এবং সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকুন।

গাড়ি চালাতে থাকলে পা ব্রেকের ওপর রাখুন এবং থেমে পড়ুন। শুয়ে পড়ুন পাশের আসনে।

আপনি অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে মাথা ঘুরতে পারে। কাজ করবেন পরিকল্পনামাফিক এবং আপনার সাধ্যের মধ্যে।

দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না। রক্তে চিনির মাত্রা কমে গেলে আপনার মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সতর্কতার সঙ্গে ওষুধ সেবন

কোনো ওষুধ গ্রহণে এমন সমস্যা হলে ডাক্তারকে জানান। তিনি ওষুধ পরিবর্তন করে দেবেন।

কার্যকর চিকিৎসার জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় জরুরি। আর মাথা ঘোরার চিকিৎসা নির্ভর করে মাথা ঘোরার কারণ ও ধরনের ওপর। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।

লেখক: মো. শরিফুল ইসলাম (চিকিৎসক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares