বিধ্বংসী সাকিবে সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ

মিরপুরে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে সফরকারী উইন্ডিজকে ৩৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে বাংলাদেশ।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২১১ রানের পুঁজি পায় সাকিব আল হাসানের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজ ১৭৫ রান করে অল আউট হয়েছে।

উইন্ডিজের ইনিংস প্রায় একাই গুটিয়ে দিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ২১ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি এই ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন। এর আগে ব্যাট হাতেও দলকে পথ দেখিয়েছেন তিনি। অপরাজিত ছিলেন ৪২ রান করে।

এদিকে, বাংলাদেশের দেয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি উইন্ডিজের। তারা দলীয় ১৮ রানে ওপেনার এভিন লুইসের উইকেট হারায়। তিনি মাত্র ১ রান করে আবু হায়দারের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাসের হাতে।

এরপর নিকোলাস পুরানকে নিয়ে ৪১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন শেই হোপ। পুরানকে ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙেছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

এরপর শেই হোপকে (৩৬) আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপরই নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে উইন্ডিজ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দ্রুত রান তুলতে থাকেন রভম্যান পাওয়েল।

তিনি ৫০ রান করে আউট হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে। দলীয় ৯৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারানো উইন্ডিজ ১৫০ রানে ৮ উইকেট হারয়ে ফেলে। শেষ দিকে উইন্ডিজের ইনিংস টেনেছেন কিমো পল।

তিনি ২৯ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন আরিফুল হকের হাতে। তবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন কোট্রেল ৩ রান করে। তাঁর কল্যাণে ১৯.২ ওভারে ১৭৫ পর্যন্ত যায় উইন্ডিজের ইনিংস।

উইন্ডিজের ইনিংসে ধস নামিয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। তিনি একাই শিকার করেছেন ৫ উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে গেছে ২টি উইকেট। তাছাড়া, আবু হায়দার, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইন্ডিজ বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। হাত খুলে খেলে ৪ ওভারেই ৪২ রান যোগ করেন দুজন।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রানের খোঁজে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের হাতে কভার অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে বসেন তামিম। কিন্তু সেই ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন তিনি। একই ওভারে স্ট্রাইকে এসে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকান লিটন।

জীবন পেলেও সেটাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তামিম। এরপরের ওভারে ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে উইকেট দিয়ে বসেন তিনি। দলীয় ৪২ রানে মিডউইকেট অঞ্চলে উরিয়ে মারতে গিতে শ্যাল্ডন কোট্রেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন তামিম। ১৬ বলে ১৫ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে।

তামিম ফিরলেও সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে উইন্ডিজ বোলারদের উপর তান্ডব চালান লিটন দাস। পাঁচ বাউন্ডারি এবং চার ছক্কার সাহায্যে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ২৬ বলে তুলে নেন ফিফটি। লিটনের পাশাপাশি সৌম্য সরকারও আগ্রাসী ব্যাট করতে থাকেন।

দুজনের ব্যাটে দলীয় ১০০ পার করে বাংলাদেশ। নিজেদের মধ্যে অর্ধশত রানের জুটিও গড়ে তুলেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩২ রানে শ্যাল্ডোন কোট্রেলকে কভার অঞ্চল দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের অসাধারণ ক্যাচে বিদায় নেন সৌম্য।

একই ওভারের শেষ বলে লিটনকে ৬০ রানে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান এই পেসার। খানিক পর ১ রানে মুশফিকও বিদায় নেন। ৪ উইকেট হারালেও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে রানের চাকা সচল রাখে বাংলাদেশ দল।

১২০ রানে ৪ নম্বর উইকেট হারালেও এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ভর করে দলীয় ১৫০ পার করে টাইগাররা। সরফকারী বোলারদের বিপক্ষে চড়াও হয়ে খেলে ইনিংসের ১৬তম ওভারে ১৯ রান এবং ১৭তম ওভারে ২০ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন সাকিব এবং রিয়াদ।

কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের দলের উপর ব্যাটিং তান্ডব চালিয়ে ১৮.৪ ওভারে দলীয় ২০০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। শেষ আট ওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে যোগ করেন ৯১ রান।

৪১ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন দুজন। সাকিব ২৬ বলে ৪২ এবং রিয়াদ ২১ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। জয়ের জন্য সফরকারী উইন্ডিজদের লক্ষ্য গিয়ে দাঁড়ায় ২১২ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশঃ ২১১/৪ (২০ ওভার)

(লিটন দাস ৬০, সাকিব ৪২*, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৪৩*), শ্যাল্ডন কোট্রেল (২/৩৮)

উইন্ডিজঃ ১৭৫ অল আউট (১৯.২ ওভার)

(পাওয়েল ৫০), (সাকিব ৫/২১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares