নির্বাচন নিয়ে সবই সাজানো নাটক?

নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থাকবে? নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি কী হবে? ইত্যাদি নানা শঙ্কার প্রশ্নের ডালপালা মেলছে সারাদেশে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং পর্যবেক্ষক বলছেন, শঙ্কার কিছু নেই। যা হচ্ছে সবই সাজানো চিত্রনাট্য। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই সবকিছু ঘটছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে সব দলই থাকবে। নির্বাচনে জয়ী হবে আওয়ামী লীগই। বিএনপি বিরোধী দলে থেকে সংসদ উত্তপ্ত করবে। ২০২৩ সালের নির্বাচনের জন্য বিএনপি দল গোছাবে। এর মধ্যে দৃশ্যমান হবে সমঝোতার অবয়ব।

এসব আশাবাদী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্যের পেছনে যুক্তিও কম নেই। এরা বলছেন, ৬ মাস আগেও কি কেউ ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে সংলাপ হবে? ড. কামাল হোসেন চিঠি দিলেন আর প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে সংলাপের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করলেন-এমন সহজ সরল বাংলাদেশের রাজনীতি নয়। এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপথ্যে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা আগে হয়েছে। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। কারণ যেহেতু বিএনপি জামাতের পৃষ্ঠপোষক, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাই আওয়ামী লীগ সরাসরি বিএনপির সঙ্গে সংলাপ চায়নি। ড. কামাল হোসেন তাই যখন প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপের জন্য চিঠি দেন। তখন তা মেনে নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য সহজ হয়। আবার অন্যদিকে নির্বাচনে যেতে বিএনপির জন্যও একটি মুখরক্ষার সংলাপ প্রয়োজন ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির এই সমঝোতার মূল উদ্যোক্তারা জানেন যে, বিএনপিতে নির্বাচনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মত আছে। তাই ধরপাকড় যা হচ্ছে তা সবই সমঝোতার ভিত্তিতে। এই ধরপাকড়ের মাধ্যমে বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শক্তিশালী এবং নিরঙ্কুশ করা হচ্ছে। সমঝোতার অংশ হিসেবেই বিএনপি নির্বাচন নিয়ে নানা রকম চেচামেচি করছে। এর ফলে বিএনপিতে ‘জিয়াভক্ত’রা ফখরুলকে সন্দেহের চোখে দেখছে না। নির্বাচন শেষ হলেও বিএনপি নির্বাচনে কারচুপিসহ নানা অভিযোগ তুলবে। বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচনে কারচুপি কোন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নয়। অভিযোগ তুললেও বিএনপি সংসদে যাবে। এখানেই সমঝোতার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হবেন। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ‍উপর মামলাগুলো আস্তে আস্তে প্রত্যাহার হতে থাকবে। আটকদের মুক্তির ব্যাপারেও সরকার নমনীয় হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ হবে প্রাণবন্ত, উত্তপ্ত। এসময় বিএনপি ধীরে ধীরে সংগঠন গোছাবে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি মৌলিক বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের ঐক্যমত হবে। জিয়া পরিবারের হাত থেকে মুক্তি মিলবে বিএনপির। ক্রমশ: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হবে বিএনপির চালক। নির্বাচনে জামাতের ভরাডুবির পর বিএনপিও জামাত বিমুখ হবে। নতুন সরতার , নতুন রাজনীতি, নতুন মেরুকরণ নিয়ে দেশ এগুবে ২০২৩ সালে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, এরকম সমঝোতার মূল পরিকল্পনাকারী হলো প্রতিবেশী এক রাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশ কি সবসময় চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলে? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ৩০ ডিসেম্বর।

বাংলা ইনাসইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares