একজন রাজাকার ছেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

লেখকঃ বার্তা সম্পাদক: মোঃ রাকিব মাহাম্মুদ একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের চারবারের সাবেক সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্তমান মহাসচিব। এর আগে ২০ই মার্চ ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল মূলত বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন, যে পদে তিনি দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে মনোনীত হন। ২০১১ সালের মার্চে দলের মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করলে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। মির্জা ফখরুল এর আগে কৃষি, পর্যটন ও বেসরকারী বিমান চলাচল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ১ আগস্ট তারিখে ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মির্জা রুহুল আমিন চিহ্নিত রাজাকার ও একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন মুসলিম লীগ করতেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকলীন সময়ে ১৯৭১ সালে মির্জা ফকরুলের পিতা রুহুল আমিন স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী হিসাবে ঠাকুরগাঁও জেলার চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন।

রাজাকার হিসাবে বাঙালিদের অনেক হত্যা ধর্ষন ও অগ্নিকান্ডের অভিযোগ ছিল তার উপর। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে দালাল আইনের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর একাত্তরের ঘাতক দালালদের আটক করে বিচার করা শুরু করেন।

১৯৭৩ সালের ৩০ শে নভেম্বর বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার পরও আটক থাকা মোট ১১ হাজার দালালের একজন ছিলেন রুহুল আমিন। মির্জা রুহুল আমিন ওরফে খোচা মেয়ার কয়েদি নং ৭০১ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট দালাল আইন বাতিল করে ১৯৭২ সালের দালাল আইনে আটক কৃত অপরাধীদের মুক্ত করে দেন।

মুক্তি পেয়ে রুহুল আমিন জিয়াউর রহমানের বিএনপিতে যোগ দিয় এবং ১৯৭৯ সালে ঠাকুর গাঁও – ২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিয় হন। মির্জা রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলার অধিবাসী না হওয়ায় জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসন (সদর) না দিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের বাহিরে ঠাকুরগাঁও – ২ আসনে বিএনপির মনোয়ন দেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজাকার রুহুল আমিন ভোল পাল্টিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ।২০০১ সালের বিএনপি আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় মির্জা ফখরুলের নাম তোলার চেশ্টা করলে ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ করে ।পরে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় মির্জা ফখরুলের নাম তোলেন ।

এই হলো জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের চরিত্র এবং বংশ পরিচয়। এই পরিচয়ের ধারক ও বাহকদের দ্বারা কি হতে পারে তা একটু অনুমান করুনতো। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কি এদের হাতে ছেড়ে দেয়া যায়? বিচার এবং বিবেচনা বোধ সকলেরই আছে তাই বিবেক বিবেচনা প্রসুত হয়ে কাজে এগিয়ে আসুন এবং আমাদের সকলের প্রীয় বাংলাদেশ দেশদ্রোহীদের হাত থেকে রক্ষা করুন। উনি প্রায়শই অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ নাকি স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি করছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares