প্রাথমিকের শিক্ষকদের নৌকায় চড়ে দাবি আদায়ের ঘোষণা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বৈষম্যদূরীকরণের বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সরকারপস্থী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে নৌকাকে জয়ী করতে একযোগে কাজ করবেন বলেও ঘোষণা দেন তারা।

মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।

তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে কোনো ধরনের বেতন বৈষম্য ছিল না। ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষকদের দুই গ্রেড নিচে নামানো হয়, ২০১৪ সালে এসে সেটি ৩ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড (১২ হাজার ৫০০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪তম গ্রেড (১০ হাজার ২০০ টাকা) পাচ্ছেন।

এতে করে ১৬ বছর চাকরি করার পর একজন প্রধান শিক্ষরের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতায় ২০ হাজার টাকা ব্যাবধান তৈরি হচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন সেখানে একজন সহকারী শিক্ষক সেই স্কেলেরও এক গ্রেড নিচে চাকরি থেকে অবসর নেন। এটি আমাদের জন্য অসম্মানের একটি বিষয়।

বলা হয়, সহকারী শিক্ষকদের ৩ ধাপ বেতন বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘ পাঁচ বছর আন্দোলন করার পরও আমাদের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আমরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীন মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আমরণ অনশন পালন করি। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, সচিব ও প্রাধমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এসে আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আমার অনশন ছেড়ে বাড়ি চলে যাই। এরপর ১১ মাস পার হলেও আজও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের মর্যাদার দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরা বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণের চেষ্টা করি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি তুলে ধরি। তিনি আমাদের দাবি পূরণে আশ্বাস্ত করেন। পরে সেটি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করা হয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সংগঠনের শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারি প্রধান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদা না দিয়ে দেশের শিক্ষার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, শিক্ষকদের মর্যদা দিয়েই তা করতে হবে। এ দাবি থেকে আমরা একচুলও সরে যাব না। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কতৃজ্ঞ প্রকাশ করছি।

তারা আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে আমাদের এ দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য সারাদেশে প্রায় ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক একযোগে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুর সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ওমর খৈয়াম বাগদাদী, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক তপন দাসসহ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares