কুমিল্লায় সিএনজি অটোরিকশা আটকের নামে রমরমা বাণিজ্য; মহাসড়কের চালকরা অতিষ্ঠ চাঁদাবাজিতে

সাইফুল ইসলাম শিশির,কুমিল্লাঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনে কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসি হিসাবে যোগদান করে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ময়নামতি হাইওয়ে থানায়। এর পর থেকে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দির সন্তান হিসাবে কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে থানায় ওসি হওয়ায় নিজ জেলার প্রভাব খাটাছেন। বিশেষ করে হাইওয়ে ওসি মাহবুবুর রহমান বিরুদ্ধে সিএনজি, মারতী ও হাইএক্স,লেগুনার চালকরা অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে ওসির ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে কুমিল্লা দক্ষিণ সদর উপজেলার জোড়কানন থেকে চান্দিনা এবং কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্যান্টমেট থেকে কংশনগর এলাকায় সিএনজি ও অটোরিকশা আটক করে সাথে সাথে মামলা না দিয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানায় নিয়ে যান। রাত্রে ৫/৭ হাজার টাকা দিয়ে চালকরা সিএনজি নিতে পাড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত্রে মধ্যে ওসি নিজে লাল প্রাইভেটকারসহ পুলিশের দুইটি ভ্যানে নিয়ে ফোর্সসহ বের হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় শুরু করেন অভিযানের নামে সিএনজি ও অটোরিকশা আটক। প্রতিদিন ১৫/২০টি সিএনজি অটোরিকশা আটক করে থানায় নিয়ে আসা তার রুটিন কাজ। সিএনজি আটকের পর চালকদের সন্ধ্যার পর থানায় যোগাযোগ করতে বলে দেয়া হয়। চালকেরা সন্ধ্যার পর থানায় গেলে প্রতি গাড়ি ৫ থেকে ৭ হাজার আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর যারা যোগাযোগ করেনি তাদের সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা পূবাঞ্চল। এভাবে হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুবুর রহমান প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নিরীহ, গরিব এসব সিএনজি, মারতী ও হাইএক্স,লেগুনার চালকদের কাছ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক চালক জানান,গত ১০দিন পূর্বে আমার ট্রাক আটক করে এখন পর্যন্ত মামলা না দিয়ে টাকা চায় হাইওয়ে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক বলেন, গত কিছু দিন পূর্বে আমার সিএনজি আটক করে ওসি। রাতে আমি তার সাথে দেখা করলে তিনি মামলা না দিয়ে ৭ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মারতী চালক অভিযোগ করে বলেন, ময়নামতি হাইওয়ে থানার পুলিশের নামে মাসিক টাকা টোকেনের মাধ্যমে তুলছেন তাদের দালাল। চান্দিনা থেকে ক্যান্টমেট থেকে কুমিল্লা যায় প্রায় পাঁচ শত অবৈধ মারতী গাড়ি। ক্যান্টমেট থেকে পদুয়ার বাজার যায় প্রায় দুই শত ফিটনেস বিহীন হাইএক্স গাড়ী,ক্যান্টমেট থেকে দেবিদ্বার যায় প্রায় দুই শত অবৈধ লেগুনার। মারতী ও হাইএক্স, লেগুনার পরিবহন চালকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা নেন তাদের দালাল। এ মহাসড়ক এলাকার গোটা চালকরা ওসির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারের মহাসড়কে সিএনজি চলা নিষিদ্ধ ঘোষণার সুযোগে কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মহাসড়ক থেকে সিএনজি আটকের নামে বাণিজ্যে নেমে গেছেন বলে অভিযোগ করেন সিএনজি চালকরা। প্রতিদিন সকালে ওসির নেতৃত্বে সিএনজি আটকের নামে অভিযান শুরু হয় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জোড়কাকন থেকে চান্দিনা পর্যন্ত।কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্যান্টমেট থেকে কংশনগর এলাকায় পর্যন্ত।প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টার মধ্যে ময়নামতি হাইওয়ে থানার সামনে হোটেলে গাড়ি চালকরা ভিড় জমায়।এসময় গাড়ির চালকদের সাথে আলাপ করে জানা যায় সিএনজিগুলো আটক করে সারাদিন থানায় আটকে রেখে সন্ধ্যায় প্রতি গাড়িপিছু ৫/৭ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। চট্রগ্রামের ট্রাকের মালিক বলেন, আমার ট্রাকটা ১০দিন আটক করে ৮ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেন। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টার মধ্যে দেনা-পাওনা পরিশোধ হওয়ার পর গাড়ির বুঝিয়ে দেন। এভাবে নিয়মিত চলছে ময়নামতি হাইওয়ে ওসির সিএনজি ও মারতী ও হাইএক্স, লেগুনা থেকে মাসিক টোকেন বাণিজ্য। যানবাহন চলাচল নিরাপদ আর যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার নিমিত্তে হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে হাইওয়ে থানা স্থাপন করা হয়। হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা আছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। জনৈক যাত্রী হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব বাঁশিসর্বস্ব, গাড়ি টহল ছাড়া আর কিছুই নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্পটে পুলিশ কনস্টেবল যারা গাড়ি সুশৃঙ্খল করার দায়িত্বে নিয়োজিত, এরা নিজেরাই হীনস্বার্থে গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ময়নামতি হাইওয়ে থানার অধিনে মহাসড়কের বিভিন্ন্ সময় স্থানে প্রায় দুটি চেকপোস্ট স্থাপন করেছেন। চেকপোস্টের কাজই হল মালবাহী ট্রাক, ট্রলি ও মিনি ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করা। অনেক সময় হাইওয়ে পুলিশের সামনে যাত্রীবাহী গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেন। পিছনের গাড়ি একটার পর একটা দাঁড়িয়ে লম্বা যানজটের সৃষ্টি করলেও পুলিশ কনস্টেবল লাঠি হাতে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকে। পিছনের যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত কনস্টেবল লাঠি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির পেছনে দুটি আঘাত করে চলে যান। যাত্রীদের বিরক্ত হওয়ায় তাদের কিছু যায়-আসে না। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, মুমুর্ষু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও হাইওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশের যানজট ছাড়ানোর কোনো তৎপরতা লক্ষিত হয় না। বরং রহস্যজনকভাবে গা ঢাকা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ যখন ছিল না তখন ময়নামতি এ অরাজক পরিস্থিতিও ছিল না।’ নিত্যদিনের এ অস্বস্তিকর যানজট দেখে প্রশ্ন জাগে হাইওয়ে পুলিশ কতটুকু দায়িত পালন করেন। বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নাজিরবাজার এলাকার অটোরিকশার মালিকরা জানান, ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি সাহেব আমাদের অটোরিকশা চালকদের উপর অনেক সময় নির্যাতন করে এবং আচরন খারাপ করেন। অনেক অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ এ কেমন আচরণ ময়নামতি হাইওয়ে ওসির হাতে নির্যাতিত একাধিক অটোরিকশা চালকরা। কয়েক মাস পূর্বে নাজিরা বাজার মদিনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় হাইওয়ে সড়কে অটোরিক্সা চালানোর অপরাধে অটোরিকশাটি ভেঙ্গে ফেলে এবং চালককে মারধর করেন। কয়েক মাস ধরেই ময়নামতি হাইওয়ে থানার এমন আচরণে, স্থানীয়রা অটোরিকশা চলাচল করা যাত্রীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক সিএনজি চালকরা অভিযোগ করে বলেন ময়নামতি হাইওেয় থানার সামনে মহাসড়ক পাশে একাধিক সিএনজিগুলো না ধরে আঞ্চলিক সড়ক থেকে সিএনজি আটক করেন। অটোরিকশা চালকরা অভিযোগ করে বলেন মহাসড়কের ২০গজের আশে পাশে প্রায় এক হাজার অটোরিকশা চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান না করে গরীব অটোরিকশা আটক করে টাকা আদায় করে পরে ছাড়েন।এ কেমন আচরণ ময়নামতি হাইওয়ে ওসির বিরুদ্ধে ।এবিষয়ে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুবুর রহমান এর সরকারি মোবাইল নাম্বারে ফোন করিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares