প্রিয়াঙ্কা কি পারবেন?

ভারতের নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই বিজেপি বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটে লড়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছিল। কলকাতা আর দিল্লিতে বিরোধীদের কয়েকটি সভা সমাবেশ যেমন হয়েছে, তেমনই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে লড়ার কৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসেছেন বিরোধী দলীয় নেতা নেত্রীরা। কিন্তু রাজ্যগুলিতে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে সেই ঐক্য প্রচেষ্টায় বাধা আসছে আঞ্চলিক দলগুলোর দিক থেকে।

রাজনৈতিকভাবে আর আসন সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টি (এসপি) আর বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) অনেক আগেই যৌথভাবে ভোটে লড়ার কথা ঘোষণা করে দিলেও সেই সমঝোতায় কংগ্রেসকে তারা রাখে নি।

শুধুমাত্র গান্ধী-নেহেরু পরিবারের চিরাচরিত আসন বলে পরিচিত আমেঠি আর রায়বেরিলি- এই দুটি আসনে এসপি-বিএসপি লড়বে না বলে জানিয়েছিল। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও ঘোষণা করেছিলেন যে তার দল একাই লড়বে।

আবার বিহারের ক্ষেত্রে লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনায় কংগ্রেস চেয়েছিল ১৫টি আসন। কিন্তু আরজেডি কংগ্রেসকে আটটির বেশী আসন ছাড়তে রাজী নয়। রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে অন্যান্য দলগুলির আসন সমঝোতা সর্বশেষ ধাক্কা খায় পশ্চিমবঙ্গে।

বামফ্রন্টের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছিল কংগ্রেস নেতাদের। কিন্তু কয়েকটি আসন নিয়ে মতান্তরের জেরে সেই প্রক্রিয়া সোমবার একরকম শেষ হয়ে গেল বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আগেরবারের জেতা আসনসহ ১৭টি আসনে বামফ্রন্ট আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। বামফ্রন্ট যে কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থী দিয়েছিল, তার অনেকগুলিতেই সোমবার বেশী রাতে প্রার্থী দিয়ে দেয় কংগ্রেস।

মঙ্গলবার বামফ্রন্টও চারটি আসন ছেড়ে বাকি সব আসনগুলিতে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

যদিও ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক আর মহারাষ্ট্রের মতো অন্য কিছু রাজ্যে কংগ্রেস আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট বাঁধতে সমর্থ হয়েছে। আসন ভাগ নিয়ে কিছু দর কষাকষি এখনও চলছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলিতে কেন বিজেপি বিরোধী দলগুলি জোট দানা বাঁধল না?

প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গৌতম লাহিড়ী বলেন, কিছুদিন আগে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান আর ছত্তিসগড়ের নির্বাচনে জয়ের পরে কংগ্রেস দল আর তার কর্মীরা এখন অনেকটা উজ্জীবিত। এর ফলে রাজ্যভিত্তিক দলগুলো – যাদের ভোট-ব্যাঙ্কের সঙ্গে কংগ্রেস ভোট-ব্যাঙ্কের কিছুটা সাদৃশ্য আছে, তারা বোধহয় আশঙ্কা করছে যে কংগ্রেস যদি লোকসভা নির্বাচনে ভাল ফল করে ফিরে আসতে পারে, তাহলে ওই রাজ্যভিত্তিক দলগুলি দুর্বল হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে ভোটের পরে ওই আঞ্চলিক দলগুলির দরকষাকষির ক্ষমতাও দুর্বল হবে। এই ভয় থেকেই কংগ্রেসকে বেশী আসন ছাড়তে রাজী হচ্ছে না। এই সমস্যাটা পশ্চিম বা দক্ষিণে নেই, উত্তর প্রদেশ, বিহার আর পশ্চিমবঙ্গেই এটা দেখা যাচ্ছে।

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রজত রায় বলেন, বিরোধীদের মহাজোট প্রক্রিয়াটা যখন শুরু হয়েছিল, তখন সব দলই কংগ্রেসকে কিছুটা দুর্বল ভাবছিল। খুব বেশী হলে ১০০টির কাছাকাছি হয়তো আসন তারা পাবে, এমনটাই মনে হচ্ছিল। আর সেকারণে আঞ্চলিক দলগুলির নেতা নেত্রীদের মধ্যে একটা প্রধানমন্ত্রীত্বের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে রাজনীতিতে নিয়ে এসে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দিয়ে খেলাটা বদলে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। প্রিয়াঙ্কা আসার পরেই কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে যে একটা আবেগ তৈরি হয়েছে। আর সেই আবেগকে কাজে লাগিয়েই কংগ্রেস অনেকটা জোর গলায় আসন ভাগের ব্যাপারে দরকষাকষিতে নেমেছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনীতিতে আসা এবং তাকে ঘিরে আবেগ তৈরি হওয়া কি সত্যিই কংগ্রেসকে বাড়তি ভোট দেবে, যে বিশ্বাসে কংগ্রেস জোর গলায় আঞ্চলিক দলগুলির কাছ থেকে বাড়তি আসন দাবী করছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বজিত ভট্টাচার্য বলেন, এক্ষেত্রে দুটো বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। প্রথমত একটা বিশাল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন যাদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে। এই বয়সের ভোটাররা টিভি দেখতে যখন শুরু করেছিলেন, তখনই ১৯৮৪ সালে শিশু প্রিয়াঙ্কা আর রাহুলকে তারা দেখেন ঠাকুমার মরদেহের পাশে, চিতার সামনে। এই ছবিটা এই বয়সের ভোটারদের মনে গেঁথে আছে। তাদের একটা আবেগ প্রিয়াঙ্কার পক্ষে কাজ করতে পারে। আবার আট কোটিরও বেশী নতুন ভোটার আছেন, যারা এবারই প্রথম লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন ১৯৯৭ থেকে ২০০১ -এর মধ্যে জন্ম নেয়া । এই বয়সের ভোটারদের মধ্যে একেবারে আনকোরা নতুন কিছু পাওয়ার একটা বাসনা থাকে। প্রিয়াঙ্কার হাঁটা চলা, কথা বলা – সবই কিন্তু তাদের কাছে একদম নতুন, ফ্রেশ। এদের একটা সমর্থনও হয়তো কংগ্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares