কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্সকে গণধর্ষণ, পাঁচজন ৮ দিনের রিমান্ডে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচজনকে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার বিকালে কড়া পুলিশি প্রহরায় আসামীদের আদালতে হাজির করা হয়। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।

আদালতের বিচারক প্রত্যেককে ৮ দিনের মঞ্জুর করেছেন। তবে আসামী পক্ষে কোনো আইনজীবি ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে ভদ্র ও পরোপকারী তানিয়ার নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- বাসের চালক গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সালুয়াটেকি গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নূরুজ্জামান (৩৯), বাসের হেলপার একই উপজেলার বীর উজলি গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে লালন মিয়া (৩২), একই উপজেলার লোহাদি গ্রামের নজর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক (৩০), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ভোগপাড়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (৩৮) ও বাজিতপুর উপজেলার নীলক্ষ্মী গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুল (৫০)।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বাসের চালক ও হেলপারসহ চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।

এদিকে ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতেই তানিয়ার মরদেহ নিজ বাড়ি কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। তানিয়ার মরদেহের ময়না তদন্তে ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র চার মাস আগে তানিয়ার মা মারা যান। বাবাকে শান্তনা দিতেই ঢাকা থেকে বাড়িতে আসছিলেন তানিয়া। স্বজন ও এলাকাবাসী আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসটি ঢাকার মহাখালি থেকে সোমবার সন্ধ্যার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার পথে এ ঘটনাটি ঘটে। ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে তানিয়া ওই বাসে উঠেন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পর্যন্ত বাসটিতে ১৯ জন যাত্রী ছিল। এরমধ্যে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ১৬ জন যাত্রী নেমে যান। এ সময় বাসটিতে তানিয়া ছাড়াও দুজন পুরুষ যাত্রী ছিলেন। বাসটি কটিয়াদী থেকে ছাড়ার পর অন্য দুটি স্টেশনে দুজন পুরুষ যাত্রীও নেমে যান। এরপরেই ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

ঘটনার পরদিন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পিরিজপুর বাজারে স্বর্ণলতা পরিবহনের টিকিট কাউন্টার ভাঙচুর ও স্বর্ণলতার কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। পুলিশ রাতেই বাসটির চালক ও হেলপারসহ পাঁচজনকে আটক করে।

এদিকে তানিয়া হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের ফাঁসির দাবিতে কটিয়াদী, বাজিতপুর ও পাকুন্দিয়ায় মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares