কলা খাওয়ার উপকারিতা

আজকাল আমাদের ঘরে তৈরি খাবারের চেয়ে বাইরের খাবারই বেশি খাওয়া হয়। তবে শরীর ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। এ জন্য ফাস্টফুডের বদলে খুঁজে নিতে পারেন প্রাকৃতিক খাবার। এর মধ্যে কলা অন্যতম। কলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। আর এটি স্বাদেও ভালো। পুষ্টিবিদরা বলেন, দিনে দুটি কলা খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তবে এর জন্য ছোট কলা বেছে নেওয়া ভালো। আর যদি টানা এক মাস দিনে দুটি করে কলা খায় তবে পুষ্টিগুণ খুব ভালোভাবে পাওয়া যাবে।

১. কলার মধ্যে আয়রন রয়েছে। আয়রন রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে কাজ করে। আয়রনের ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা হয়। এক মাস দিনে দুটি করে কলা খেলে রক্তের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে।

২. প্রতিদিন দুটি কলা খাওয়া শরীরের শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই ব্যায়াম করার আগে কলা খেতে পছন্দ করে।

৩. কলা মুড ভালো করতে কাজ করে, বিষণ্ণতা কমায়। আর প্রতিদিন দুটি কলা খাওয়া এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। কলার মধ্যে থাকা উপাদান মস্তিষ্কে সুখী হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। তাই বিষণ্ণতায় ভুগলে দিনে দুটি করে কলা খান।

৪. ভালোভাবে প্রসব হওয়ার জন্য গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কলা খাওয়া প্রয়োজন। কলা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। এটি গর্ভাবস্থায় সকালের ক্লান্তি ভাব দূর করে।

৫. কলায় কম সোডিয়াম রয়েছে। তবে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর। এতে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন দুটি কলা খেলে ৪০ শতাংশ হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

৬. কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে। গবেষকদের মতে, যেসব ছাত্র সকালের নাশতায় বা বিকেলের নাশতায় কলা খায়, তাদের মনোযোগ বাড়ে বহুগুণে।

৭. কলার মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটি হজমে সাহায্য করে। দিনে দুটি কলা খেলে হজমের সমস্যা কমে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। হজমের সমস্যা থাকলে টানা এক মাস দিনে দুটি করে কলা খেয়ে দেখতে পারেন।

৮. মশার কামড়ে ফুলে, লাল হয়ে ওঠা ত্বকের যত্ন নিতে ক্রিম বা অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করার আগে কলার খোসা ঘষে দেখুন ত্বকের ফুলে ওঠা অংশে।

৯. কলায় থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি যা স্নায়ুকে শান্ত করে। মানসিক চাপ কাটাতে ফ্যাটি ফুডের থেকে বেশি প্রয়োজনীয় কলা। কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ হওয়ায় কলা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে স্নায়বিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

১০. নরম ও মিহি হওয়ার জন্য পেটের সমস্যায় খুবই উপকারী খাবার কলা। অত্যন্ত খারাপ পেটের রোগেও কলাই একমাত্র ফল যা নির্বিঘ্নে খাওয়া যেতে পারে। কলা অস্বস্তি কমিয়ে আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।

১১. অনেক দেশে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কলা ব্যবহার করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জ্বর হলে ওষুধের বদলে খাওয়ানো হয় কলা। তাইল্যান্ডে গর্ভস্থ সন্তানের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে কলা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

১২. টানা ১ বছর ধরে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল ইংল্যান্ডের টুইকেনহ্যাম স্কুলের ২০০ জন পড়ুয়ার ওপর। পরীক্ষার আগে টানা ব্রেকফাস্ট, ব্রাঞ্চ ও লাঞ্চে কলা খাওয়ানো হয় তাদের। দেখা গিয়েছিল কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম তাদের মনসংযোগ বাড়ানোর ফলে অন্যদের থেকে পরীক্ষায় ভাল করেছিলেন ওই ২০০ জন পড়ুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares