রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ কালবৈশাখী কালবৈশাখী ঝড় ,১০ জনের প্রাণহানি

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ কালবৈশাখী তাণ্ডব চালায়। সেই সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। আর এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে একজন, বাড্ডায় পার্কিংয়ের দেয়াল ধসে দুজন, রাজশাহীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, গাছ চাপা পড়ে বগুড়ায় যুবক এবং নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও অনেকেই।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি।

রাজধানীতে নিহত তিন : গতকাল শুক্রবার ইফতারির কিছুক্ষণ পরই রাজধানীতে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে শফিকুল ইসলাম নামে একজন নিহত হন। তিনি স্থানীয় একটি টায়ারের দোকানের কর্মচারী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, বায়তুল মোকাররমের ঘটনায় ১৬ জন আহত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে শফিকুল (৩৮) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার জানান, শুক্রবারের জুমায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রচুর মুসল্লির সমাগম হয়। তাই মসজিদের দক্ষিণ গেটে নামাজের জন্য একটি প্যান্ডেল করা হয়। মাগরিবের নামাজের সময় হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়ে সেটি ভেঙে পড়লে নামাজরত মুসল্লিরা আহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাসেল সিকদার জানান, সন্ধ্যার তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বায়তুল মোকারম মসজিদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ অংশে স্থাপিত অস্থায়ী প্যান্ডেল ভেঙে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বাড্ডায় পার্কিংয়ের দেয়াল ধসে নিহত হয়েছেন দুজন। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের কবলে পড়ে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, বেশিরভাগই গাছ পড়ে। আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানান, ইফতারের পরই রাজধানীতে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি হয়।

সাবেক চেয়ারম্যান নিহত : রাজশাহীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পুটিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিহত হয়েছেন। তার নাম নাম আব্দুস সোবহান সরকার (৮০)।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায় রাজশাহীর ওপর দিয়ে। ওই সময় সোবহান সরকার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে তার মুড়ির মিলে বসেছিলেন। ঝড়ের তাণ্ডবে ওই মিলের চালা উড়ে যায় এবং তার মাথায় এসে একটি ইট পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে ঝড়ের তাণ্ডবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের অসংখ্য গাছপালা ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়েছে বাগানের আম।

গাছ চাপা পড়ে যুবকের মৃত্যু : বগুড়ায় ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে শহীদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শহরতলীর শ্যামবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহীদুল শহরের সাবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ট্রাকের হেলপার। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ জানান, মহাস্থান থেকে ধানবোঝাই একটি ট্রাক বিকালে শেরপুরের দিকে রওনা হয়। ট্রাকটি ৫টার দিকে শ্যামবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছার পর ঝড়ের কবলে পড়ে। এর পর একটি গাছ ভেঙে ট্রাকের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদুলের মৃত্যু হয়। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু : পোরশা উপজেলায় বজ্রপাতে হাসান (৩০), শফিনূর (২৮) ও জাহাঙ্গীর আলম (২০) নামে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার গানোইর বিলে ধান কাটার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান গানোইর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে, শফিনুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বিটলীটোলা গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে এবং জাহাঙ্গীর আত্রাইয়ের হাটকালুপাড়া এলাকার খোদাবক্সের ছেলে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, শ্রীরামপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও রেজাউল করিম।

৫ মিনিটেই বিধ্বস্ত শতাধিক ঘরবাড়ি : মাত্র চার থেকে পাঁচ মিনিটের কালবৈশাখীতে সদর উপজেলায় একটি গ্রামের শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার শুকানপুকুরী ইউনিয়নের বাংরোড গ্রামের ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares