বাংলাদেশ আসছেন মোদি, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা

ভারতে দ্বিতীয় দফায় বিপুল ভোটে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। দ্বিতীয় দফায় নরেন্দ্র মোদীর বিজয়ের পর তিস্তা চুক্তির বিষয়ে নতুনভাবে আশাবাদী ঢাকা। মোদীর শপথ গ্রহণের পরই এই বিষয়ে দিল্লিকে তাড়া দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন মোদী। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সেখানে ঢাকা সফরের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণও জানাবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী ঢাকা সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি আমন্ত্রণবার্তা মোদীর হাতে তুলে দেবেন। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কিছু উপহারও নিয়ে যাবেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী। মোদী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন বলেও ঢাকা আশাবাদী বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

এদিকে নরেন্দ্র মোদীর সফর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও যোগ দিতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পূর্ব নির্ধারিত ত্রিদেশীয় সফর থাকায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী। তবে ত্রিদেশীয় সফর শেষে ভারত হয়ে ঢাকা ফিরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে এটি কোনো দ্বিপক্ষীয় সফর নয়। উচ্চ পর্যায়ের একটি কূটনৈতিক সূত্র যাত্রাবিরতিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ‘গুড উইল এক্সচেঞ্জ’ বলে অভিহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ৮ জুন নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড-তিন দেশ সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে ভারতের নয়াদিল্লিতে যাত্রা বিরতিকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে যাত্রাবিরতি, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকসহ সংক্ষিপ্ত সূচি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন ঢাকা ও নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নয়াদিল্লির কাছে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ৮ জুন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ফিনল্যান্ড থেকে প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি পৌঁছানোর কথা। একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে নয়াদিল্লি ত্যাগ করবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির আওতায় বাংলাদেশ সফর করবেন নরেন্দ্র মোদী। তার এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৪ সালে প্রথম বিদেশ সফরে ভুটান গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৫ সালে তিনি ঢাকা সফর করেন।

ভারতের কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রথম দেশ সফর হিসেবে মালদ্বীপ যেতে পারেন।

নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় মেয়াদে আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসবেন এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে যদি হয় তবে বাংলাদেশ খুশি হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যম কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যু আলোচনা হবে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা ইস্যুতে আসতে পারে নাটকীয় ঘোষণা। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের চাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তার সরকারের মেয়াদে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ সফরে মোদিকে সেটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে মোদী সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সময় সম্পর্ক ভালো ছিল। এখনো থাকবে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। আশা করি নতুন এই সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি নদীর সম্পৃক্ততা আছে। তিস্তা নদী চুক্তি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনেক আগেই অনুমোদন দিয়েছে। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেয়নি। আশা করি নতুন সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি হবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোটের ফল প্রকাশের পর শেখ হাসিনা মোদীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। এরপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আশা করি, তিস্তা চুক্তি-সহ অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।’

দিল্লির কূটনীতিকরা ঢাকাকে বারে বারে জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে ঘরোয়া স্তরে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু পাঁচ বছরে সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম বলেছে, মোদীর শপথের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। তারপরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে পুরনো প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে ফের দিল্লিকে তাড়া দিতে তৈরি হচ্ছেন তারা। মোদীর আমলে দু’দেশের সম্পর্ক যে সর্বাচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, তার জন্য মোদীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল বলে মনে করছে ঢাকা। মোদীর আমলে স্থলসীমান্ত চুক্তি যেমন সুষ্ঠু ভাবে রূপায়ণ করা গিয়েছে, তিস্তার ক্ষেত্রেও সেটা হবে বলে আশাবাদী ঢাকা।

এর আগে ২০১১ সালে ঢাকা সফরে এসে তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি রূপায়ণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এরপর ২০১৪ সালে শপথ নিয়েই ঢাকা সফরে আসেন নরেন্দ্র মোদী। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আগের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি তিনি রূপায়ণ করবেন। সুষ্ঠুভাবে স্থলসীমান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলেও মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিতে তিস্তা চুক্তি নিয়ে দিল্লি আর আগায় নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেসময় জানান, তিস্তায় পর্যাপ্ত জলের অভাবে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে কৃষিজীবীরা এমনিতেই সঙ্কটে। বাংলাদেশকে বাড়তি জল দেওয়ার আগে যথার্থ সমীক্ষা করে এ রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares