আজ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ৩০ মে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন তিনি। বিএনপি জিয়ার এ মৃত্যুকে শহীদদের সঙ্গে তুলনা করে শাহাদাতবার্ষিকী হিসেবে বরাবরের মতো এবারও শোকাবহ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। আজ ভোরে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কালজয়ী দর্শনের প্রবর্তক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকীতে আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ’

৭১ সালে সারা জাতি যখন স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, অথচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতায় দেশের মানুষ দিশাহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে ২৬ মার্চ (১৯৭১ সালের) মেজর জিয়ার কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের অভয়মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। ফলে দেশের তরুণ, ছাত্র, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রেরণার উৎস। ৩০ মে মহান নেতার শাহাদাতবার্ষিকী সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনে সবার প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী থানার বাগবাড়িতে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মনসুর রহমান কলকাতায় একজন কেমিস্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। শৈশব ও কৈশোরের একটি সময় গ্রামে কাটিয়ে তিনি পিতার সঙ্গে কলকাতায় এবং দেশ বিভাগের পর করাচিতে চলে যান।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে কমিশন লাভ করেন। সামরিক জীবনে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যেও তিনি একের পর এক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী যখন নিরস্ত্র জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

কর্মসূচি : জিয়াাউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসমূহ।

এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আজকের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টায় সারাদেশের সব দলীয় কার্যালয়ে কালো দলীয় ও পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ। সকালে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন।

সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিল ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে ড্যাবের উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প। কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে ৩০ মে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কবর প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বইমেলা ইত্যাদি। এদিন ওলামা দলের উদ্যোগে সমাধি প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিলে শরিক হবেন নেতারা।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতি থানায় দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও ইফতারসামগ্রী বিতরণ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সারাদেশেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Shares